মোঃ শহীদুল্লাহ, উদ্যোক্তা, চিরাং ডিজিটাল সেন্টার, কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।॥
অাবারও জাতিসংঘের 'ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি' (ডাব্লিউএসআইএস) পুরস্কার পেল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশনের (এটুআই) প্রকল্পের 'জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জার্মানি, ইতালিহ-সহ ২৫টি দেশকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হয়েছে।
এ বছর ৪৬টি ক্যাটাগরিতে কয়েক'শ প্রকল্প জমা পড়ে। জাতীয় তথ্য বাতায়ন ছিল ৩ নম্বর ক্যাটাগরিতে।
পুরস্কার প্রাপ্তির খবর জানাতে মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের অায়োজন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর র্কাযালয়রে মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ জাতীয় তথ্য বাতায়ন সর্ম্পকিত বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করনে। এসময় এটুআই প্রকল্পরে জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাইমুজ্জামান মুক্তা-সহ এটুআই প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় তথ্য বাতায়ন একসেস টু ইনফরমেশন অ্যান্ড নলেজ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ও মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ই-সার্ভিস বিভাগের পরিচালক ড. মো. আবদুল মান্নান ও এটুআই- এর পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী।
গত সোমবার থেকে জেনেভায় শুরু হয়েছে 'ডাব্লিউএসআইএস ফোরাম-২০১৫'। ৫ দিনের এ ফোরাম চলবে ২৯ মে পর্যন্ত। ফোরামে অংশ নিতে ডাব্লিউএসআইএস কর্তৃপক্ষ এটুঅাই প্রকল্পকে অামন্ত্রণ জানায়। প্রসঙ্গত, এ ফোরামের অায়োজক জাতিসংঘের তথ্য ও টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (অাইটিইউ)।
এবার ডাব্লিউএসআইএস পুরস্কারে প্রাথমিক মনোনয়নের তালিকায় ৪ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের ৭টি প্রকল্প স্থান পায়। প্রকল্পগুলো ছিল এটুআই -এর জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও শিক্ষক বাতায়ন, সিনসিস আইটির মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প এম-হেলথ, প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশের কৃষি তথ্যসেবা বিষয়ক প্রকল্প ১৬১২৩, এম-পাওয়ার সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের আমাদের ডাক্তার ও ফার্মার কোয়ারি সিস্টেম এবং উইন মিয়াকি লিমিটেডের কৃষি তথ্য সার্ভিস ২৭৬৭৬।
বাংলাদেশ এবার যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জার্মানি, ইতালি, ওমান, পোল্যান্ড, সৌদি অারব, জর্জিয়া, কুয়েত, তানজানিয়া, মালয়েশিয়া, বুলগেরিয়া, কাজাখস্তান, কোরিয়া, কিউবা, চীন, লাটভিয়া, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, কলম্বিয়া, সার্বিয়া, নেপাল, ইথিওপিয়া ও অারব অামিরাতকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হয়। এ ছাড়াও বিশ্বব্যাংক এবং ইউএনইপি'র প্রকল্পকেও পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।
জানা গেছে, ২৫ হাজার ওয়েবসাইট সমৃদ্ধ জাতীয় তথ্য বাতায়ন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ওয়েব পোর্টাল। আর এর মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সব সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের মানোন্নয়ন ও দেশের শিক্ষাখাতকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে তৈরি করা হয়েছে 'শিক্ষক বাতায়ন'। এছাড়া বেসরকারিভাবে তৈরি এমহেলথ প্রকল্পটি এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি মানুষকে ঘরে বসেই চিকিৎসা সেবা ও তথ্য পাওয়ার সুবিধা দিয়েছে।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস