Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

শিরোনাম
সরকারি উদ্যোগে-এখন প্রতিদিনই শ্রমিক যাবে মালয়েশিয়া...
বিস্তারিত

মাত্র ৩৩ হাজার টাকায় প্রতিবছর লক্ষাধিক শ্রমিক যাওয়ার কথা থাকলেও ১৯৮ জনের মধ্যে আটকে গিয়েছিল মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি। এবার সব জটিলতা কাটিয়ে পুরোদমে শুরু হচ্ছে এ রপ্তানি প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শ্রমিকদের জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) পদ্ধতিতে একে একে পাঠানো হবে এবং আগামী সপ্তাহ থেকেই প্রেরণ শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে ২৭ আগস্ট ১৭৪ জনের একটি দল মালয়েশিয়া যাবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০ কর্মী গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে মাসে প্রায় ১০ হাজার কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হতে পারে দেশটিতে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল রবিবার রাতেই মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। প্রতিনিধিদলটি মালয়েশিয়ায় মানবসম্পদমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নানা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করবে বলে সূত্র জানায়।

এ প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, '২৭ আগস্ট ১৭৪ জনের একটি দল বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিবে। আগামী সপ্তাহেই পাঁচ শতাধিক শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিনই মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যাবে।' মন্ত্রী আরো বলেন, মালয়েশিয়ায় নির্বাচনের পর প্রশাসনিক কিছু জটিলতায় ধারাবাহিকভাবে কয়েক মাস জনশক্তি রপ্তানি করতে সমস্যা ছিল। এখন সেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। কম টাকায় মালয়েশিয়ায় যেতে পেরে শ্রমিকরা অনেক খুশি। যারা নিবন্ধন করেছিল এবং লটারিতে বিজয়ী হয়েছে, তাদের সবাই পর্যায়ক্রমে মালয়েশিয়ায় যেতে পারবে বলে মন্ত্রী জানান।

এদিকে গত এপ্রিলে জিটুজি পদ্ধতিতে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দশে ১৯৮ শ্রমিক যাওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রপ্তানি শুরু হওয়ায় মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছু নিবন্ধনকারীরা নতুন করে আশায় বুক বাঁধছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়ায় যেতে সারা দেশে অনলাইনে নিবন্ধন করে ১৫ লক্ষাধিক শ্রমিক। তাদের মধ্য থেকে প্রাথমিক অবস্থায় লটারির মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী নির্বাচিত করা হয়। এসব শ্রমিক এখন কম টাকায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক বেগম শামসুন নাহার।

গত বছরের ২২ অক্টোবর সরকার টু সরকার পর্যায়ে শ্রমিক পাঠানোর ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ, কৃষি, সেবা, প্ল্যানটেশন কাজে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া। প্রথম পর্যায়ে কৃষিকাজে পাঁচ হাজার শ্রমিক নেওয়ার আগ্রহ দেখায় দেশটি। তারই অংশ হিসেবে জানুয়ারিতে শুরু হয় শ্রমিক রপ্তানির প্রক্রিয়া।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, 'এপ্রিল মাস থেকেই মালয়েশিয়ায় ধারাবাহিকভাবে কর্মী যাওয়া শুরু হয়েছে। মাঝে প্রক্রিয়াগত কিছু সমস্যা এবং মালয়েশিয়ায় সরকার পরিবর্তনের কারণে কিছুটা জটিলতা দেখা দেয়। সবকিছুর সমাধানের পরই শ্রমিক রপ্তানি শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে ধারাবাহিকভাবে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়।'

ছবি
ডাউনলোড