রফিক খায়রুলঃ আপোষহীন এক কলম সৈনিক সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, যার নেশা ও পেশা শুধুই সাংবাদিকতা। মফঃস্বল সাংবাদিকতার কঠিন বাস্তবতাকে সঙ্গী করে দীর্ঘ ২ যুগের অধিক পথচলা তার। এলাকার সকল সংবাদ কর্মীরাই তাকে সাহসী এবং আপোষহীন সাংবাদিক হিসাবে আখ্যা দিয়ে থাকেন বিভিন্ন সভা সেমিনারে এমনকি আড্ডাতেও। ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে সংবাদপত্রের জগতে তার আগমন। নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গোপালআশ্রম গ্রামে এক কুলীন সংস্কৃতিমনা হিন্দু পরিবারে তার জন্ম হয়। তার বাবার নাম গৌরাঙ্গ বিশ্বশর্মা এবং মা মালতী রাণী বিশ্বশর্মা। সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মার পূর্ণ যৌবনে তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮২ সালে প্রভাবশালী কুচক্রীমহলের পক্ষ থেকে তার পরিবারের উপর নেমে আসে চরম বিপর্যয়। গ্রামের সহজ সরল মানুষ তার বাবা ঐ অত্যাচার সইতে না পেরে ক্ষোভে ও দুঃখে পরিবারের সকলকে নিয়ে ভারতে চলে যান। কিন্তু জন্মভুমি মাকে ছেড়ে যাননি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা। গঠনমুলক চিন্তা ও সততাকে পুঁজি করে দৈনিক নব অভিযান, দৈনিক সমাচার, দৈনিক খবর, দৈনিক জাহান, আজকের কাগজ, বাংলার দর্পণ, বাংলার বাণী, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় কাজ করেছেন তিনি। উপজেলা সদরে থেকে মফঃস্বল সাংবাদিকতা করা যে কতটা কঠিন টা একমাত্র তারাই বলতে পারবেন যারাই ভুক্তভোগী। সাহসের সঙ্গে আপোষহীন সাংবাদিকতার কারণে তাকে অনেক মামলা, হামলা সহ অনেক চরাই উৎরাই পাড়ি দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি দৈনিক সমকাল, দৈনিক জাহান এবং অপরাধ সংবাদ ডট কম পরিবারের সাথে যুক্ত। এছাড়াও বাংলাদেশ অনলাইন সাংবাদিক কল্যাণ ইউনিয়নের উপদেষ্টা পরিষদের একজন গর্বিত সদস্য। এছাড়াও নানা ধরনের সামাজিক কল্যাণমুলক কাজে রয়েছে তার বিশেষ বিশেষ অবদান। এক ছেলে ও দুই কণ্যা সন্তানের জনক সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন, কেন্দুয়া উপজেলার সাজিউড়া গ্রামের প্রখ্যাত নাট্যশিল্পী ও পরিচালক প্রয়াত সুশীল বিশ্বাসের প্রথমা কণ্যা কৃষ্ণা কাবেরী অপু বিশ্বাসের সঙ্গে। কালের আবর্তে সুশীল বিশ্বাস সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েন। তার মৃত্যুর পর যৌতুক বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসাবে ঐ পরিবারের দায়িত্ব পর্যন্ত তুলে নিয়েছিলেন তার নিজের কাঁধে। কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে দুইবার নির্বাচিত হন তিনি। প্রথমবার তার প্রচেষ্টায় ও সকলের সহযোগীতায় সাংবাদিকদের ঠিকানা অর্থাৎ প্রেসক্লাবের নামে ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন এবং ২য় মেয়াদে উক্ত জমিতে আধাপাকা ভবন তৈরি করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ৯ বছর। খুব কাছে থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলি দেখেছেন তিনি। তার ভাষায়, দেশ স্বাধীন হয়েছে ঠিকই কিন্তু অর্জিত হয়নি দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং বাক- স্বাধীনতা। মফঃস্বল সাংবাদিকতার বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করলে জাতি যেমন উপকৃত হয় তেমনি পেশাগত মর্যাদাও বাড়ে। তিনি আরো বলেন, সত্য কথা বলা এবং সত্য সংবাদ লেখার মাঝে আলাদা একটা সুখ এবং মর্যাদা আছে যার স্বাদ হলুদ সাংবাদিকরা হাজার বছরেও পাবেন না।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস